গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (১৯৭৩-৭৮) গৃহীত “বাংলাদেশে গণগ্রন্থাগার উন্নয়ন প্রকল্প-১” এর আওতায় ঢাকায় একটা Library Training Institute প্রতিষ্ঠার কর্মসূচী নেয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্প দলিল অনুযায়ী Institute টি জনশিক্ষা পরিচালকের প্রশাসনিক কর্তৃত্বে প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও বাস্তবে Institute এর জন্য সৃষ্ট সুযোগ সুবিধা বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (ল্যাব) কে প্রদান করা হয় এবং ইনস্টিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রম (গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে সার্টিফিকেট কোর্স পরিচালনা) বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অবশ্য এর অনেক পূর্বে ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান গ্রন্থাগার সমিতির (স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি) উদ্যোগে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে স্নাতক নিম্ন পর্যায়ের সার্টিফিকেট কোর্স এর প্রবর্তন করা হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে এ কোর্সটি একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। এভাবে ১৯৭৬ সন থেকে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির আওতায় “Library Training Institute” এর যাত্রা শুরু হয়।

এ ইনস্টিটিউট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক অনুদান পাওয়া যায়। অপরদিকে দেশের গ্রন্থাগারসমূহ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ ও পেশাদার জনবল সৃষ্টির লক্ষ্যে এ দেশে গ্রন্থাগারিকতা শিক্ষা ও পেশার জনক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান গ্রন্থাগার সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম এম এস খানের উদ্যোগে ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিভাগ খুলে সেখান থেকে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্সের প্রবর্তন করা হয়। জনাব এম এস খান অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বেও অধিষ্ঠিত হন। এরপর ১৯৬২ সন থেকে এম এ কোর্স প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বিভাগটি পূর্ণাঙ্গতা লাভ করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ বিভাগটির নাম পরিবর্তন করে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগ করে এবং এ বিষয়ে স্নাতক সম্মান কোর্স প্রবর্তন করে ডিনস কমিটি, একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেট এর সিদ্ধান্তক্রমে ডিপ্লোমা কোর্সটি পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতিকে অনুরোধ জানায়। সে পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৯ সাল থেকে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির আওতাধীন লাইব্রেরি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পরবর্তীতে ইনস্টিটিউট অব লাইব্রেরি এন্ড ইনফরমেশন সায়েন্স) এর মাধ্যমে ডিপ্লোমা কোর্সটি পরিচালনা শুরু করা হয়। ইনস্টিটিউটটির যথাযথ পরিচালনা ও ডিপ্লোমা কোর্সটির শিক্ষার মান সমুন্নত রাখার জন্য ১৯৯৭-৯৯ সেশনে ঢাকা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেস্টা প্রফেসর ড. এম. শামসুল হক -কে চেয়ারম্যান করে ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিধদের সদস্য করে একটি গভর্নিং বডি গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে ইনস্টিটিউটের তৎকালীন পরিচালক ও গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর ড. এম. শামসুল হক এর যৌথ স্বাক্ষরিত আবেদনের ভিত্তিতে জুলাই ২০০০ থেকে ইনস্টিটিউটটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি লাভ করে। তখন থেকে নীলক্ষেত হাইস্কুলের সাথে ভাড়া চুক্তির ভিত্তিতে স্কুল ভবনের তৃতীয় তলায় এ কোর্সটি পরিচালিত হয়ে আসছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি লাভের পর উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে গঠিত ৩ (তিন) বছর মেয়াদী একটি গভর্নিং বডির তত্ত্বাবধানে ইনস্টিটিউট পরিচালিত হয়ে আসছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত দেশের সকল ইনস্টিটিউটগুলির মধ্যে এই ইনস্টিটিউটের পড়াশুনার মান সমুন্নত রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ সদা তৎপর রয়েছে।